Gaming Spec (1)

আমার আরবীভাষা শেখার গল্প

আরবীভাষা শেখার প্রতি বরাবরই মনের মধ্যে একটা দুর্বলতা কাজ করতো। চিন্তা করতাম, অনুবাদ ছাড়াই যদি কুরআন ও হাদিসের অর্থ বুঝতে পারতাম! যেই ভাবা সেই কাজ। ২০১৯ সালের নভেম্বরের দিকে ঠিক করলাম, আরবীভাষা শেখার উপর তো ইউটিউবে অনেক ভিডিও আছে, সেগুলো না হয় একটা একটা করে দেখতে থাকি। শুরু করলাম মদিনা এরাবিক বুকের প্রথম খন্ড দিয়ে। প্রথম আর দ্বিতীয় ভিডিও পুরোটাই দেখে শেষ করলাম। এরপর অন্তরে শয়তানের ওয়াসওয়াসা ঢুকে গিয়ে এতোটুকু পর্যন্তই রেখে দেই। তৃতীয় ভিডিও যে দেখবো সেই ইচ্ছাটাই মনের মধ্যে আর আসেনি। ১-২ মাস শুধু এই তৃতীয় ভিডিও দেখার চেষ্টাই করি, কিন্তু আর আগাতেই পারিনি। হাল ছেড়ে দেই। ঠিক করি, একজন শিক্ষকের অধীনেই পড়বো। এভাবে একাকী শেখা কোনোভাবেই সম্ভব নয়।

তারপর কেটে গেলো ৩-৪ মাস। এই ৩-৪ মাসে অনলাইনভিত্তিক পেইড কোন কোর্স আছে কিনা তা খুঁজতে থাকি। ২০২০ সালের মার্চ অথবা এপ্রিলের দিকে হঠাৎ উস্তাদ আব্দুল্লাহ আল মাসউদ (হাফিঃ) এর একটা পোস্ট টাইমলাইনে দেখতে পাই। উনার প্রতিষ্ঠিত Nurul Quran Academy- NQA থেকে উস্তাদ আরবী ভাষা শিক্ষার উপর একটি কোর্স চালু করতে যাচ্ছেন। শিক্ষক হিসেবে থাকবেন উনি নিজেই।

এতো মাস যাবত যা নিয়ে ফেইসবুকে ঘাটাঘাটি করেছি, আল্লাহ তাআলা আমাকে এর ফলাফল আমার সামনে হাজির করেছেন। যেহেতু উস্তাদের অনলাইনে লেখালেখি আর উনার মৌলিক/অনুদিত/সম্পাদিত বইগুলো পড়া হয়েছে, সেহেতু আর দেরি না কোর্সে নিজেকে এনরোল্ড করেনিলাম।

কোর্সে ভর্তি হওয়ার পিছনে এই হচ্ছে আমার এক টুকরো গল্প। শুধু আরবীভাষা শিক্ষা কোর্সেই এখন যতটুক জানি 8ম ব্যাচ চলছে। বাকি কোর্সের কথা আর না-ই বা বললাম। বুঝতেই পারছেন, মাত্র দুই বছরেই একাডেমী কেমন গ্রহণযোগ্যতা অর্জন করেছে। আলহামদুলিল্লাহ।

.

প্রথম দিকে পড়া অনেকটা সহজ ছিল। তাই উস্তাদ আমাদেরকে তিনদিন দারসের রেকর্ড দিতেন। সময় যত গড়ায়, পড়া তত কঠিন হতে থাকে। ফলে, উস্তাদ সপ্তাহে দারসের রেকর্ড দুইদিন করে দেন, যাতে পড়াটা সহজে, সময় নিয়ে আমরা আত্মস্থ করতে পারি। পাশাপাশি সপ্তাহে দুইদিন অনুশীলন আর একদিন মৌখিক পড়া নেওয়া হতো। এভাবেই একটু একটু করে সামনে অগ্রসর হতে থাকে আমার আরবীভাষা শিক্ষার পথচলা।

এবার কোর্সে পড়াকালীন কিছু ফায়দার কথা বলিঃ

> প্রথম হচ্ছে, জুমে পড়া শোনানোর কারণে নিজের ভুল কোথায় হচ্ছে, কেন হয়েছে, তা উস্তাদের কাছ থেকে তখনোই ঠিক করে নেওয়া যেতো। ফলে, দ্বিতীয়বার ঐ জায়গাতে ভুল হওয়ার সম্ভাবনা বলতে গেলে আর হয়নি, আলহামদুলিল্লাহ।

> দ্বিতীয় ফায়দা হলো, পরীক্ষার আগে উস্তাদ আব্দুল্লাহ আল মাসউদ (হাফিঃ) বিশেষ দারস নিতেন, যাতে কারো কোন সমস্যা থাকলে তা সংশোধন করে নিতে পারি।

> তৃতীয় ফায়দা হলো, গুরুত্বপূর্ণ বা বিশেষ কিছু নিয়ম থাকলে সেগুলো আলাদা শিট বানিয়ে উস্তাদ আব্দুল্লাহ আল মাসউদ (হাফিঃ) আমাদের সাথে শেয়ার করতেন আমাদের সময় বাঁচানোর জন্য।

> চতুর্থ ফায়দা হলো, পরীক্ষায় যখন ভুল করতাম, উস্তাদ আব্দুল্লাহ আল মাসউদ (হাফিঃ) নিজে ম্যাসেঞ্জারে এসে বলে দিতেন, ভুলটা কি কারণে হয়েছে।

আল্লাহর হুকুম এবং উস্তাদদের সহযোগিতার কারনেই লম্বা পথ পারি দিয়ে আরবীভাষা শিক্ষা কোর্সটা সম্পন্ন করতে পেরেছি, আলহামদুলিল্লাহ। আরবীভাষা শেখার পাশাপাশি, উস্তাদ আমাদেরকে মাবাদিউন নাহু, ফিকহুস সিয়াম, দারসুল ফিকহ, আম্মা পারার তরজমা, ব্যাসিক আকিদাহর কোর্সও করিয়েছেন। একসাথে এতো জ্যামস পাওয়াটাও সৌভাগ্যের ব্যাপার। ইচ্ছা আছে, একাডেমী থেকে ইসলামের আরো কিছু বিষয়ে জ্ঞান অর্জন করার। আল্লাহ তাআলা যেনো সেই তৌফিক দেন। সকল উস্তাদ ও নুরুল কুরআন একাডেমির জন্য রইল দোআ।

গত ২৬শে জুলাই, ২০২২ ছিল আরবীভাষা শিক্ষা কোর্সের প্রথম ব্যাচের সমাপনী দারস। উস্তাদ আবদুল্লাহ আল মাসউদ (হাফিঃ)-কে এসো আরবী শিখি ৩য় খন্ডের শেষ ১০টি হাদিস থেকে ২টি হাদিস সরাসরি জুমে শুনিয়েছিলাম। হাদিস শোনানোর পর উস্তাদ সেগুলোর অর্থ এবং ব্যাখ্যাও বলে দিয়েছিলেন। জুমে তখন ৭০+ শিক্ষার্থী ছিলেন (বেশিরভাগ ছিলেন অন্য ব্যাচের)। যদিও অনলাইন, তারপরেও এতো জনের সামনে হাদিস শোনানোটা আমার জন্য সহজ ছিল না। মনে ভয় কাজ করছিল এই কারণে যে যদি পড়তে গিয়ে কোথাও আটকে যেতাম, তাহলে দুইবছরের মেহনতের কোন দামই থাকতো না। কিন্তু, আল্লাহর রহমতে, সঠিকভাবেই উস্তাদের কাছে পড়া দিতে পেরেছিলাম। আলহামদুলিল্লাহ।

অতীতের কিছু ঘটনার কারণে কেউ কেউ আছেন, অনলাইনভিত্তিক পেইড কোর্স করতে অনীহা প্রকাশ করেন। নুরুল কুরআন একাডেমীর পড়ালেখার মান নিয়ে অনেক শিক্ষার্থীর অনুভূতি একাডেমীর সাইটে দেওয়া আছে। সময় থাকলে পড়ে দেখবেন। অন্য কোর্স সম্পর্কেও তথ্য, মন্তব্য জানতে পারবেন।

শেষ কথা, অলসতায়, ব্যস্ততায় আর শয়তানের ওয়াসওয়াসার কারনে যখন দারস জমে যেত, তখন মনে হতো, আমার দ্বারা আর সম্ভব না কন্টিনিউ করা। হতাশ হয়ে পড়তাম। কিন্তু যখন গ্রুপে উস্তাদের নাসিহাহ শোনতাম কিভাবে পড়াশোনায় মন বসাতে হবে, তখন চিন্তা করি, এমন সুযোগ ভবিষ্যতে হয়তবা নাও আসতে পারে। কারন, প্রথম ব্যাচে আমরা প্রায় ১২০ জনের মতো ভর্তি হয়েছিলাম। কেউ প্রথম খন্ডের পর ছেড়ে দিয়েছেন, তো কেউ দ্বিতীয় খন্ডের পর। শেষে কোর্স কমপ্লিট করেছি ২০-২৫ জনের মতো। বাঁধার তো শেষ ছিল না। কিন্তু আল্লাহর কাছে সবসময় চেয়েছি, শেষঅব্দি যেন থাকতে পারি। আলহামদুলিল্লাহ, আল্লাহ আমাকে হতাশ করেননি।

Share:

Facebook
Twitter
Pinterest
LinkedIn

জনপ্রিয় ব্লগ

বাংলা

হিফজ শিক্ষার্থীর বাবা-মায়ের জন্য ৮ পরামর্শ

অনেক বাবা-মায়ের স্বপ্ন থাকে ছেলেকে হাফেজ বানাবেন। নিজেরা আল্লাহর কালামকে পরিপূর্ণ বুকে ধারণ না করতে পারার আফসোস কিছুটা হলেও ঘোচানোর

পুরোটা পড়ুন
বাংলা

তাবলিগ জামাত : একটি নির্মোহ পর্যবেক্ষণ

ব্যক্তিগতভাবে আমি তাবলীগী জামাতের সাথে জড়িত কেউ না। তবে খুব কাছ থেকে তাদেরকে দেখার সুযোগ হয়েছে। ছাত্র জীবনে কয়েকবার ছাত্র-জামাতেও

পুরোটা পড়ুন