تَعَلُّمِي اللُّغَةَ العَرَبِيَّةَ (22)

সবর ও সালাত

ছোট বলে কাউকে অবহেলা করতে নেই। যেহেতু ছোট-বড় ব্যাপারটা আপেক্ষিক তাই প্রতিটি ছোটই অন্য কিছুর তুলনায় বড়; প্রতিটি বড়ই অন্য কিছুর তুলনায় ছোট। আবার অনেক সময় দুই ছোট-বড়র মধ্যে অবস্থা ও পরিস্থিতির বিচারে ছোটর গুরুত্ব বেড়ে যায়। যদিও বড় আপন জায়গায় বড় হিসেবেই বহাল থাকে।

এই সব কিছুর সমন্বয় আমরা দেখতে পাই সূরা বাকারার আয়াতে। আল্লাহ তাআলা সেখানে বলেছেন,

یٰۤاَیُّہَا الَّذِیۡنَ اٰمَنُوا اسۡتَعِیۡنُوۡا بِالصَّبۡرِ وَ الصَّلٰوۃِ ؕ اِنَّ اللّٰہَ مَعَ الصّٰبِرِیۡنَ

“হে মুমিনগণ, সবর ও সালাতের মাধ্যমে সাহায্য চাও। নিশ্চয় আল্লাহ ধৈর্যশীলদের সাথে আছেন।” (বাকারা : ১৫৩)

সালাত ইসলামের সবচে গুরুত্বপূর্ণ ইবাদাত। একজন মুসলিম ঈমান আনার পর সর্বপ্রথম সালাতের প্রতি আদিষ্ট। ঈমানের পর দ্বীনের সর্বোচ্চ খুঁটি হিসেবে একে বিবেচনা করা হয়। সবর বা ধৈর্যধারণ করা স্বতন্ত্র কোন ইবাদাত নয়। এটি একটি নির্দেশনা মাত্র। যা অবলম্বন করলে বান্দা উপকৃত হয়, আর বর্জন করলে সাধারণভাবে গুনাহগার হতে হয় না। এটি সালাতের পরে ইসলামের অন্যান্য আরও যেসব খুঁটি বা স্তম্ব আছে সেগুলোরও কোনটি নয়। তবুও উক্ত আয়াতে প্রথমে সবরের কথা বলা হয়েছে, তারপর সালাতের।

সালাতের আগে সবরের উল্লেখের কয়েকটি হিকমত থাকতে পারে। প্রথমত সবরের গুরুত্ব বুঝানোর জন্য। অর্থাৎ এটি সালাতের চেয়ে মানের প্রশ্নে নিম্নের হলেও এর গুরুত্ব কোন অংশেই কম নয়। কারণ এর মাধ্যমে একজন মানুষ বিপদ-আপদে নিজেকে স্থির রাখতে সক্ষম হয়। সকল ক্ষেত্রে আল্লাহর ওপর ভরসা করার সক্ষমতাও অর্জিত হয় এর মাধ্যমে।

দ্বিতীয়ত সালাত আদায়ের জন্যও সবরের প্রয়োজন পড়ে। কারণ সবর শব্দের অর্থ হলো বন্দি করা বা আটকে রাখা। এটি মূলত তিন ধরনের। প্রথম হলো, বিপদে-আপদে নিজেকে অস্থির হওয়া থেকে আটকে রেখে স্থির থাকা। দ্বিতীয় হলো, গুনাহে লিপ্ত হওয়া থেকে নিজেকে আটকে রাখা। তৃতীয় হলো, ইবাদাতের মধ্যে নিজেকে আটকে রাখা। তো সালাত যেহেতু একটি ইবাদাত তাই এটি আদায় করার জন্যও সবরের প্রয়োজন পড়ে।

অনেক সময় অলসতা বশত আমাদের নামাজ পড়তে মন চায় না। জোর করে তখন মনকে ইবাদাতের মধ্যে আটকাতে হয়। ভোর রাতে মন চায় না তুলতুলে বিছানা ছেড়ে ওজু করে জায়নামাজে দাড়াতে। তবুও মনের সাথে যুদ্ধ করে মনকে ইবাতাদের ভেতর বন্দি করে নেই। এগুলো সব সবরের তৃতীয় প্রকারের উপস্থিতির কারণে সম্ভব হয়। সেহিসেবে সালাত আদায়ের পেছনে আছে সবরের বিশাল বড় ভূমিকা।

সবর না থাকলে অনেক সময় সালাত অস্তিত্বেই আসতে পারে না। তাই হয়ত আল্লাহ তাআলা সবরের উল্লেখ আগে আর সালাতের উল্লেখ পরে করেছেন।

আয়াতের শেষে আল্লাহ সালাত আদায়কারীদের সাথে আছেন না বলে বলা হয়েছে আল্লাহ সবরকারীদের সাথে আছেন। যেহেতু যে ব্যক্তি সবর অবলম্বনকারী, স্বাভাবিকভাবে সে সালাতও আদায়কারী হবে। এর থেকেও বুঝে আসে সবরের গুরুত্ব কতটুকু।

Share:

Facebook
Twitter
Pinterest
LinkedIn

জনপ্রিয় ব্লগ

বাংলা

হিফজ শিক্ষার্থীর বাবা-মায়ের জন্য ৮ পরামর্শ

অনেক বাবা-মায়ের স্বপ্ন থাকে ছেলেকে হাফেজ বানাবেন। নিজেরা আল্লাহর কালামকে পরিপূর্ণ বুকে ধারণ না করতে পারার আফসোস কিছুটা হলেও ঘোচানোর

পুরোটা পড়ুন
বাংলা

তাবলিগ জামাত : একটি নির্মোহ পর্যবেক্ষণ

ব্যক্তিগতভাবে আমি তাবলীগী জামাতের সাথে জড়িত কেউ না। তবে খুব কাছ থেকে তাদেরকে দেখার সুযোগ হয়েছে। ছাত্র জীবনে কয়েকবার ছাত্র-জামাতেও

পুরোটা পড়ুন